মোট পৃষ্ঠাদর্শন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

সোমবার, ৬ জুন, ২০১১

বন্ধুত্বের দাবি

একটা বিকেল শেষে গোধুলি বেলায়,
হালকা বাতাস মনে দোলা দিয়ে যায়।
একঝাঁক গাংচিল ডানা মেলে ওড়ে,
আমরা কজন থাকি মায়ার চাদরে।
হাসি গান আড্ডায় আমরা সবাই,
বন্ধুত্বের দাবি সবাই জানাই।
সন্ধ্যের অবকাশে মেশে কোন সুর?
গীটারের তালে আজ রাত বহুদুর;
আমাদের এই বন্ধুত্বের গানে,
শব্দের মায়াজালে শক্ত বাঁধনে;
রুপসার জলস্রোতে মোদের পরশে,
জোছনার আলো খেলে সোনার আদলে,
চারিদিক সুনসান নিরব নিথর,
আমরা গেয়ে চলি রাত হয় ভোর;
রাত শেষে দিন এসে নতুন আলোয়,
লালচে আভা ঢেলে মোদের জানায়;
বন্ধুত্বের নেই রাত আর দিন,
হই হই রই রই আমরা স্বাধীন,
যদি চাই পাড়ি দেই অসীম সাগর,
মোদেরই পদতলে রাত হয় ভোর;
মোরা সব বাঁধা তেড়েফুঁড়ে আসব চলে,
নতুন এ সোনা রোদ মোদেরই রবে।

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১১

স্মৃতি

'একটা সময় ছিল আমার হাতে,
ইচ্ছের পায়ড়াটা উড়তো সাথে;
চোখদুটো ছানাবড়া করে দাঁড়কাক,
দুপুরের রোদ্দুরে পিলে ধরা ডাক।

মায়ের পাশেতে শুয়ে ছোট্ট আমি,
আচারের কৌটোটা কোথায়, জানি
মায়ের ঘুম মাখা মুদে আসা চোখ;
এক ছুটে উঠোনটা ঘুরে আসা হোক।

বিকেলের আলোতে নিয়ে ব্যাট-বল
সারাটি বেলা জুড়ে শুধু শোরগোল
তুমি-আমি আমি-তুমি আমরা সবাই,
টই-টই-রই-রই সারাটি বেলাই;

হঠাত করেই মনে নাড়া দিয়ে যায়,
সেই দস্যি দামাল ছেলে আজকে কোথায়?
সেই বাঁধভাংগা দুষ্টুমি কোথায় গেল?
ইচ্ছের পায়ড়াটা কোথা হারালো?

হঠাত তোমায় দেখে সেই ছেলেটা,
ইচ্ছের রঙ মেখে সারাটি বেলা;
সকাল-দুপুর-সাঝ কত মমতা,
রাত্রির জোনাকিরা আলো দিয়ে যা।

আজকে কোথায় তুমি! কোথায় আমি!
হিসেবের বেড়াজালে থমকে থামি;
গরমিল-গরমিল, শুধু গরমিল
মনের মৌচাকে আচানক ঢিল।

কস্টের দাঁড়কাক পিলে ধরা ডাক,
ইচ্ছের পায়ড়াকে তাড়িয়ে বেড়াক।

নিরাশ আমায় দেখে করুণাতে নয়;
সত্যি কথাই আজ তোমায় জানায়,

অন্ধ এ আমি কবে খুইয়েছি পথ,
পথের কিনারা ধরে হেটে অবসাদ;
সারাদিন একটানা-ছেঁড়া স্যান্ডেল
ইচ্ছের পায়ড়াটা হল ককটেল।

তোমার জন্যে লেখা সব কবিতা,
যদি আওড়ে যাও কভু সারাটি বেলা;
বেলা শেষে খুলে দিও-ওই জানালা,
যেথা চাঁদ এসে আলো দেয় রাত্রিবেলা।

তোমার উঠোনে পাতা সবুজ ঘাসে,
শুয়ে রাত্রি কাটাই আমি তারার সাথে,
চাঁদটাকে দেখেছিনু তোমার ঘরে;
ইচ্ছেরা পথ ভুলেছিল…

চাইনা তোমায় আমি আমার করে,
জানি মিথ্যে অভিলাষে প্রতীমা গড়ে;
কাচের মতই ভাঙ্গে নিজের হৃদয়,
কস্টের দাঁড়কাক সব করে ক্ষয়,
ইচ্ছের পায়ড়াকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

আজ আমি তুমি দুইজন দুইটি পথে,
হেটে যেয়ে, হারাবো দুই সীমাতে;
আমার সাথে তো শুধু ছেঁড়া স্যান্ডেল,
স্মৃতিগুলো হয়ে আছে শুধু ককটেল।

জানি মিথ্যে অভিলাষে প্রতীমা গড়ে,
নিজ হাতে ভেঙ্গেছি সব প্রতীমা।'



~~~~M.H.Rahman(04-11)~~~~

শনিবার, ৭ মে, ২০১১

সুর্যের চিঠি এল দুর্বাঘাসে

সুর্যের চিঠি এল দুর্বাঘাসে, এক রাশ কাশফুল ওড়ে বাতাসে,
মিটিমিটি রোদ খেলে নদীর জলে, কোকিলেরা চুপি চুপি কথা বলে;
আমার এ মন কেন! তোমার জন্য এত আকুল হয়?
রোদেলা সকালটা তোমায় ভেবে কেন সন্ধ্যেয় পাড়ি জমায়?
মহুয়ারা গন্ধ বিলায়, পাখির অই গান শোনা যায়।।

তোমার মনের কথা পাখির কন্ঠে ভেসে সাঝের মায়ায়,
চুপি চুপি গান গেয়ে আমায় শোনায়;
বকুল মালা হয়ে তোমার শাঁখে চেপে, আমায় টানে;
মনের দুঃখগুলো নিজের পথ ভুলে সুখের গানে,
হঠাত করে কেন আমারে টানে?
মহুয়ারা গন্ধ বিলায়, পাখির অই গান শোনা যায়।।

একি তবে প্রানে, প্রিয়ার চকিত চাওয়া দোলা দিয়ে যায়?
দিবানিশি তাকে ঘিরে মনের গোপন ঘরে আনমনে সপ্ন সাজায়!
মনের গোপন ঘরে মহুয়ার মালা গেঁথে তারে টানে
প্রেমের পরশে কিগো তারেই আপন করে কাছে টানে?

যদি তাই হয় তবে আমায় নাও নাগো সঙ্গে করে,
দুজনার দুটি মন পথের অবকাশে আজ হারাবে।
সাগরের ঢেউয়ে ভেসে, গাংচীল উড়ে এসে;
হঠাত রাতের চাদর, তারার টোপড় পরে চাঁদ বুড়ি ঘুম পাড়াবে।
দুর্বা ঘাসের মাঝে সবুজ গালিচা এঁকে, রাতের মিস্টি সুবাস, তোমাকেই বারে বারে কাছে টানবে।।
দুর্বা ঘাসের মাঝে সবুজ গালিচা এঁকে রাতের মিস্টি সুবাস তোমাকেই বারে বারে কাছে টানবে।।'

রবিবার, ৬ মার্চ, ২০১১

২৫ ফেব্রুয়ারী

ধ্যান ধরি করি ধর্ম সাধন নিজের মনের ইচ্ছে পালন
মন ধরে করি মর্ম সাধন, রন্ধ্রে রন্ধ্রে মর্ম বোধন
মনের জোড়ে আজকে নতুন ২১ হচ্ছে রচন
মনের জোড়েই ১৬ আবার হচ্ছে যে পালন
স্বাধীন দেশে স্বাধীন মানুষ, স্বাধীন মনোবল
পরের অন্নে তাড়ন দেখে আঁখি আজি ছল ছল
দেশের মাঝে নতুন নতুন জ্যান্ত রক্তক্ষরন
রক্তের দাগ না শুকোতে হায় আবার বিস্ফোরন
স্বাধীন দেশে এমন কান্ড হায়রে দেখছি কি?
নিজের দেশে নিজের ঘরেই রক্ত ঝড়াচ্ছি!
রক্ত দিয়ে ভাষার দাবি যেদিন কেনা হল
সেদিন থেকে স্বদেশ ভুমি নতুন কি কি পেল?
আজকে দেশে ফের দাঁড়িয়ে ভাবছি একলা তাই?
কালকে না হয় নাইবা বাঁচি আজ কি হবে ভাই!
রক্তেস্বর স্রোতস্বিনি বঙ্গ ধারাবাহি
রক্তধারায় গঙ্গা রচে সপছি তমায় মাহি
২৫ তারিখ হাজার স্মৃতির মেঘলা ঘনঘটা
তোমায় বলে আজ জুড়াবো মনের জ্বালাটা
হাজ়ার দাবির ছত্রছলে সান্ত্রি এসে সদলবলে
বীর সেনানি এমনি করে সমরবিহীন জজ্ঞঘরে
বুলেট বুকে কেমনি মরে,গগন তারা কেমনি ঝড়ে,
আটপৌড়ে চিন্তা ফুড়ে একোন ভীষন ভয়?
বঙ্গমাতা তোমার ছেলের মূল্যবোধের এ কোন অবক্ষয়?
কোন অজানার ধুসর স্রোতে স্মৃতিপটে আচর কেটে
মনের কোনে ভীষন দানো আঘাত করে যায়
মৃত্যুরুপি জমদূতেরা কেমনি ছাড়া পায়?
আজ এ দেশে এমন করেই নতুন ইতিহাস এমনি করেই হবে রচন এমনি বার মাস!

আত্মায় আত্মায় কথা হবে

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় খোঁজ

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় খোঁজ

যেদিন তোর দেহ পোড়া ছাই দিয়ে আসর মাতবে রোজ

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় খোঁজ

হাতের লোমসব সোজা হয়ে টান টান,টান-টান

মাথার চুলগুলো ভয়ে যুবুথুবু, ভীত আজ তোর ওই প্রান।

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় রোল

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় রোল

মনের মতো করে মনেরই অগোচরে নিজেই পাতিস কি ফাঁদ?

পিয়াস মিটাতে তোরি খোঁজে ওত পেতে এসে গেছে দেখ জল্লাদ…

মনের মুর্তিটাকে আরেক আচল পেতে রুপসার জলস্রোতে মেলেধর

নিজেকে আড়াল করে, ভয়টাকে ধরে রেখে,চাতালে ফুঁটো এঁকে

পাহারা দিশ নিজ ঘর??

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় রোল

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় রোল

কঠিন প্রাণ তোর কাটবেনা কভু ঘোর,চাতালের অস্ফুট চিতকার-

শুনবেনা কেউ আর,চাতালের খোঁজ আর, পাবেনা ওই নীল খেচর,

আরেক আচল পেতে মনের মূর্তিটাকে রুপসার জলস্রোতে মেলেধর

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় রোল

আত্মায় আত্মায় কথা হবে, আত্মায় আত্মায় রোল

একদিন সব শেষে সব নিস্তব্ধ সুনসান সুনসান

যেদিন হয়ে যাবে ভবলীলা সাঙ্গ তোর দেহে ফিরবেনা এই চেনা প্রাণ

আত্মার ধবনি শুনে নিজ হাতে দূরে ঠেলে পাবি কিসে তুই বল শান্তি,

আপন সত্তাটাকে নিজ হাতে দূরে ঠেলে মুঠো ভরে নিচ্ছিস ভ্রান্তি।

যেদিন মৃত্যু রেখা-জমদূত পাবে দেখা পাবি কি আর প্রেম-ছবক!

মৃত নিস্তব্ধ সুনসান নগরীর জুবুথুবু কাঠখোটা;

মনে তোর পড়ে গেছে কোন সে মোড়ক?

অসহায় তুই আজ ভীষন অসহায় তোর দেহে প্রান নেই হায় হায়

ছিনি মিনি খেলা খেলে প্রান ছিড়ে চলে গেছে বহু আগে হারিয়েছে ঠাঁই!

মৃত এই নগরীর জঞ্জাল তুই আজ কোন রঙ্গে রাঙ্গাবি ক্যানভাস!

তোর নস্ট তুলির তোড়ে-রঙ গুলো শুকিয়ে-মনে ছড়ায় কোন ত্রাস!

আজ তুই একলা প্রাণ নেই তোর দেহে অন্য কোথায় খোঁজে আশ্রয়!

প্রেমহীন তুই কি তার ঘরে মিশে যেতে মনটাকে দিবি না প্রশ্রয়!

আত্মায় আত্মায় কথা হোক, আত্মায় আত্মায় রোল

আত্মায় আত্মায় কথা হোক, আত্মায় আত্মায় রোল

ভ্রান্তির রেখা সব যুবুথুবু তোকে দেখে জলকেলি করতেই ব্যস্ত

তুই যে ভ্রান্তি ক্রেতা জীবন সাঙ্গ করে বৈঠা বিহীন নাওয়ে ত্রস্ত!

তোর আত্মায় সাড়া-পড়ে গেছে সেই কবে তোর চোখ খুঁজে ফেরে আস্রয়,

তবু তুই থমকে, ভীরু পায়ে জুবুথুবু-জুবুথুবু-জুবুথুবু কোন ভয়!

আত্মায় আত্মায় কথা নেই আত্মায় আত্মায় ক্ষয়

আত্মায় আত্মায় কথা নেই আত্মায় আত্মায় ভয়

হাতের নখের মতো তোর চাওয়া বাড়ছে না, ইচ্ছেরা মিশকালো কুন্তল!

তোর চাওইয়া সংকট,তোরই মাঝে ছলনা, মিস্টি হাসিতে তুই খুব অচেনা;

তোর প্রাণে বৈশাখি ঝড়ের আগমনী তোর মাঝে কারো প্রাণ সাজেনা!!

আত্মায় আত্মায় কথা নেই, আত্মায় আত্মায় সংশয়

আত্মায় আত্মায় কথা নেই, আত্মায় আত্মায় ভয়

আত্মার ধবনি শুনে নিজেকে পালটে ফেলে নতুন আহবানে সাড়া দে,

জমদূত দেখা পেলে ফুসরত পাবি না ঠিকানা হবে সাড়ে তিন হাতে

আত্মায় আত্মায় কথা হোক আত্মায় আত্মায় জয়!

আত্মায় আত্মায় কথা হোক আত্মায় আত্মায় জয়!

আত্মায় আত্মায় কথা হোক, দূর হোক সব সংশয়

আত্মার ধবনি শুনে গীটারের কর্ড ভুলে সব কিছু ছুড়ে ফেলে ছুটলে,

অচেনাকে চিনতে দুয়ারে নেমে আয়, প্রাণপাখি আজো দেখ দুয়ারে

দুয়ারের দাড়ে সে-বসে আছে এক কোণে হাতে তার নিস্পৃহ আয়না,

আয়নায় চোখ রেখে নিজের বিম্ব দেখে তোর নিজ টাকে চেনা যায়না!

তুই তোর অমানিশি-পূর্নিমা-চাঁদ গলে তাকেই কি আড়চোখে দেখতি?

তোর সপ্ন মনে অকারন পুষে রেখে নিজেই কি জলে পুড়ে মরতি?

আনমন অকারণ সে যে নিস্তব্ধ সুনসান সুনসান!

দেরি হয়ে গেছে আজ কপালের কারুভাজ-

দুটি হাত তার আজি জীর্ণ,

তোরই তরে বসে থেকে নাকফুল পড়েনি;

অনামিকা ছিল তার শুন্য…

জীবনের সমাধি রচে আজ তার হায় দেখ ষোলো কলা হয়ে গেল পূর্ণ…

আত্মায় আত্মায় কথা নেই আত্মায় আত্মায় ক্ষয়!

আত্মায় আত্মায় কথা নেই আত্মায় আত্মায় ক্ষয়!

নিজ বোঝা বয়ে তুই বৃদ্ধ ক্ষীনকায় তোর চাওয়া আজ নয় মত্ত,

তোর প্রেম মরেনি পাখি শুধু মরে গেছে এটাই তো অপ্রিয় সত্য!

পাখি আজ চলে গেছে পাখি গেছে বাড়ি ফিরে;

তোর প্রাণ হারিয়েছে আশ্রয়

তোর আশা মরে গেছে তোরি কান্নার ধনি রুপসার জলস্রতে মিশে যায়,

নিথর সে দেহ ধরে তুই আজ অসহায়, খুব বেশি-বড় বেশি অসহায়

সংশয় খেলা খেলে তুই হয়ে একলা-প্রাণ তোর হারিয়েছে আশ্রয়

তোর তরে জেগে থেকে সব ঘুম শেষে-সে কি আবার দেবে তোকে প্রশ্রয়!

তার ঘুম ফুরাবেনা; সব কিছু চলে যাবে; রয়ে যাবে শুধু তোর সংশয়…

আত্মায় আত্মায় কথা শেষ আত্মায় আত্মায় ক্ষয়

আত্মায় আত্মায় কথা শেষ আত্মায় আত্মায় ক্ষয়

ব্যর্থ তুই তো জীবন্মৃত-তোরঅ দেহে প্রাণ নেই-হায় হায়

জমদূত এসে গেছে-ওই তোর দুয়ারে-দেখ ওই কুতসিত কদাকায়!

দেরি করে ভুল করে আত্মাকে ঠকিয়ে নিজ হাতে কুড়ালি সব সংশয়

আত্মায় আত্মায় কথা শেষ আত্মায় আত্মায় ক্ষয়

আত্মায় আত্মায় কথা শেষ আত্মায় আত্মায় ক্ষয়।

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১১

'ব্যর্থশ্রম'

দিব্যসাধন, পদ্যরচন,বিদ্যাচয়ন-নিস্প্রয়োজন;
আপন মনকে-আপনি জেনে-নিজের মনটি-কররে ওজন।
দিব্যজ্ঞানের সাধনশালা-
ধলো-শ্যামল-ময়লা-কালা,
সকল ভ্রাতা চক্ষু মুদে অলস চিন্তা কর?
ও তোর আপন মনের বাঁকে বাঁকে-দেব যে আছে তারেই আগে বর।
দিব্য সাধন ব্যস্ত হলি-বিধির বিধে বাম;
ও তোর রুদ্ধ চোখের সামনে পুরে দুষ্ট মনস্কাম।

ও তোর সাধনশালায় উঠলে বেজে হন্তারকের বীন,
দিব্য সাধন পণ্ড হলে ধরবি রনভীম?
জীবন খানি পণ্ড করে-দেবের জ্ঞানে ভণ্ড হলে,
তোরে কেন বরবে কেহ করলি ঘোড়ার ডিম?
নিজের মনের দেবকে চিনে পরের সেবা কর;
নইলে ও তোর সাধন শালাই রচবে তোরই গোঁড়।

পদ্য খাদক পদ্য রোচে করলি কিরে হায়ে!
ও তোর ছন্দগুলোর স্কন্ধদেশে শিরদারা কোথায়?
সস্তা প্রেমের ফুসমন্তর রচলি নিজের কড়ে,
ও তোর ব্যর্থ প্রেমের নিরাশ প্রলাপ লাভ কি হবে ক’রে?

পদ্যসাধন-সাধক সভা; বিজ্ঞজ্যাঠা-লক্ষ্মীছাড়া
দেশের সেবায় করলি কি তুই ঘরের কুনোকীট?
সারা জনম লিখেই গেলি হলি গ্রন্থকীট!
ও তুই আপন হাতে-কলম ধরে, পরের ভ্রান্তি ধর!
দেশের ভ্রমটা নিজেই মুছে দেশের সেবা কর।

বিদ্যারোহী শৃঙ্গজয়ী তুইতো গ্রন্থকীট
ও তোর বিদ্দ্যার জোর কোথায় ত্থাকে? ছোটা জিভের গিঁট,
সারা জনম খোয়ালি তুই একই তক্তপোশে;
হাজার ছটাক বিদ্যারে তুই ঢাললি নিজের ঠোসে,
বিদ্যার জোর কাজের বেলায় আমরা কাঠের ঢেঁকি!
সারা জনম পণ্ড করে রয়েই গেলি মেকি।
তক্তপোশের সাঙ্গ ছেড়ে হাটতি হাজার ক্রোশ,
বুঝতি তবে জীবনটাকি ঢাকতি নিজের দোষ।
ও তোর সাঙ্গ সকল তুশছে তোরে বিদ্যামোহে অন্ধ হয়ে,
সেই তোশনে মজলি ভীষণ দেশের তরে জাতির তরে করলি কি তুই বল?
তোর জাতের পিঁপড়া হাতি পায়না খুঁজে তল,

গ্রন্থ সাহেব অনেক জানেন পণ্ডিতজন আপ,
দেশকে দেখান নিত্য নতুন যুগান্তরের খাব;
নিজের কাজটি যত্ন করে নিজেই করুন তাই,
তবেই যদি হয় তো হবে যুগ-অন্তর ভাই।
নয়ত এসব আটপৌড়ে চিন্তাগুলোয় জট,
চিন্তাজটে পরান ফুটে বললে ভজঘট...।



-এম. এইচ.

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১১

১৯৭১

১ বর্তমান
তেল চিকচিক সুঠাম তুমি উচ্ছল তব চাহনি
গ্রন্থিল পেশি জৌলুশ ভরা বুকের শক্ত গাঁথুনি
চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়েছে বুদ্ধি হয়েছে ঘটে
সদা সতেজ সহাস্য তুমি যুবক হয়েছ বটে
তেল চিকচিক ঐ তনু তব ক্ষনিক জীবনে নশ্বর
জীবন মহিমা অর্জিয়া তুমি হইবেকি চির ভাস্বর
গায়ের কুর্তা রুধিতে না পারে তোমার শিনার পাটা
জীবন জোয়ারে ভাসিয়া চলিছ জাননা কোথায় ভাঁটা।

হাটিছ চলিছ বলিছ কথা সুন্দর বাংলিশ
ভাবিছ মনের গড়িবে জীবন রুপকথা-ইংলিশ
Coming-going ইংরেজি জান;জান অদ্ভুত গালি
রাতভর কথা বলতে পার ধর্মের গুড়ে বালি
নয়নে চড়িয়ে রঙ্গিন চশমা,নিশি কিনবা দিনে
দিন রাত চলে চা সিগারেট নেশাও হয় গোপনে

নিজেরে তুমি যে বিকায়ে দিয়েছ আপনি জাননা তা
যে ক্ষয়ের শুরু ৫৭(১৭৫৭) এ সেথায় হয়েছে ঘা।

বিশ্বায়ন কি বুঝেছ তুমি? বুঝনিতো কানাকড়ি,
আপন হাতে অভিশাপগুলি নিয়েছ পকেট ভরি
মুক্ত-বাজার পেয়ে গিয়ে তুমি নিজেরে বলিছ স্বাধীন
তোমার বিকোতে দেশটা আজও রয়ে গেল পরাধীন।


২ অতীত
তেল চিকচিক সুঠাম তুমি যৌবন তেজী বাহু
শুনিতে কি পাও ধরনি হেথাএ করিতেচে আহুতাহু?
জীবন প্রদীপ নিভিয়া জ্বলিছে তোমারি পদতলে
নিভিয়া নামিবে তমশা আঁধার তোমারি একটি ভুলে
জান কি তোমার জন্ম কাহিনী জানো নাকি কি যে ব্যাথা?
জীবন মাঝে যে মৃত্যুরা থাকে জানো নাকি সে কথা
জান নাকি কোন জুলুম গিয়াছে ৭১ এর সালে!
জান কি কোন মৃত্যু পুরী ঘুমায়েছে পদতলে?
বাপটা তোমার মরেছে কিভাবে রেখেছ খবর তার
কি ব্যাথা তোমার মায়ের মনেতে পেয়েছ দেখা তার?
নয়টি মাসে ৩০ লক্ষ মানুষ হয়েছে শহীদ!
কি ছিল তাদের অন্যায় বল কি ভাষায় দেবে ধিক?
সেদিনের সব কথা মনে হলে চোখ ভেজে বারবার
তবুও এসব মিছে কথা নয় শুনে যাও নমুনা তার
শিয়ালবাড়ীর জল্লাদখানা কেড়েছে হাজার প্রান
গুঁড়ায়ে গুঁড়াও হাত পায়েরে মানবের অপমান
হিংস্র পশুও বরবর নয় যতটা ওরা ছিল
'কুত্তা','শুওর' কোন গালি দেবে ভাষাটা আমারে বলো!
'মানুষ মরেছে? মরতেই পারে যুধে মানুষ মরেই।'
'মায়ের কোলের শিশুও মরে ! নিজের ঘরে বসেই?'
তোমার বয়সী যৌবন মরে বুলেট বুকে করে
২৫ মার্চে রক্তারক্তি হয়েছিল ঘরে ঘরে।

৩ ইতিহাস
জানো কি তোমার নিজের কাহিনী
জানো কি অজানা গাঁথা?
জান কি, কি ঘটেছিল ঘরে? না তুমি জাননা তা।
দুহাতে জড়ায়ে তোমারে যখন রাখিয়াছিল কোলে,
টানিয়া ধরিয়া নিয়ে গেছিল তোমার মায়েরে তুলে
বাপটা তোমার বাধা দিতে এলে ধারালো সঙ্গিন দিয়া
খুঁচায় তুলেছে চোখটা তাহার কাপিতেছে তব হিয়া?
এখনতো কিছু হয়নি শুরু কেবল শুনিয়া যাও
ব্যাথায় কাতর পিতারে ধরিতে তুমি যবে ছুটে যাও
তোমারে তুলিয়া মেরেছে আছাড় রক্তে ভেসেছে গাও
আরেক পশুর বুটের আঘাতে ফেটেছে কচি ভাল;
ভাগে তুমি হারায়েছ জ্ঞান দেখনি মায়ের হাল!
বাপরে তোমার লাথায়ে মেরেছে মায়ের চোখের ‘পরে
বৃদ্ধ দাদীরে করেছে গুলি তাহারি আপণ ঘরে
ব্যাথায় কাতড় বাপ্টা যখন এতটুকু জল চায়
মা তোমার সব ছাড়িয়া-ছুড়িয়া ছুটিয়া গিয়াছে হায়!
ভাগ্যে তুমি অজ্ঞান ছিলে দেখটা কী হলো পরে
তিনটে পশু এক খানা কোলি কেমন করিয়া ছেড়ে;
বোনটা তোমার ছিলো যেন এক উচ্ছল বালিকা,
সেদিনের পর হয়ে গেলো যেনো দুঃখের মালীকা;
সেই যে সেদিন বোনটারে ওরা ক্যাম্পে ভরিল হায়
বলিতে-কীযে দুঃখ গাঁথা মন ভরে বেদনায়।
দিন দিন করে নয়টি মাস কাটিয়া গিয়াছে তার
থাকেনি কিছুই চলিয়া গিয়াছে স্বপ্ন মেনেছে হার।

৪ আশা
তোমার বাবার রক্তবিন্দু তোমার মায়ের ঘাম
তোমার বোনের তিল তিল করা শত শত অপমান
একটি ১৬, একটি ২৬ মুখস্থ কিছু গান
এই কি তবে দাবী ছিল তার? ছুটছে প্রশ্নবাণ!
ধিক দিবে তুমি কাকে আজ বল নিজেরে বিকোয়ে হায়
রক্তের দাবী ভুলে গেছো তুমি রঙিন বেশভূষায়!
নিজের মনরে জিজ্ঞেস করো হাতে নিয়ে তার খুলি
যে থাকতো আজ শিওরের পাশে মাথায়ে কাটতো বিলি
বিশ্বায়নের মত্ত আশায়ে মুক্ত করা বাজার ফাঁদে
মাতৃভূমির স্বপ্নরা সব গোমড়া মূখে ডূকড়ে কাঁদে
দশরঙা চূল রঙচঙা জিনস শতছিন্ন পোশাক
সানগ্লাস দিয়ে হঠাৎ ময়ূর সাজো তুমি হে কাক
ভাবছো তোমারে দিলাম ধিক করলাম অপমান
ওরে না! না! ক্ষুদ্র প্রয়াস হোক তোর উদগম
নেট ঘেটে যবে জানছ তুমি নিত্য নতুন ফ্যাশন
আগে জেনে নাও জন্মে তোমার উড়ছে সে কোন নিশান!
নিজের মুক্তি-ইতিহাস জান নিজের বিবেক দিয়ে
পরের জনুরে জানাবে কি তুমি বুঝাবে বল কি দিয়ে?


বাঙালি তুমি বাংলাদেশি কখনও ভুলো না তা
যারা ছোপছাপ রঙে ধরে ভাব নেই তার জাতীয়তা
নিজের যা আছে তাই নিয়ে চলো তুমি বাঙালির ছেলে
তোমার আছে গর্বিত অতীত আর সব যাও ভুলে
বিশ্বকাতারে দাঁড়াতে গিয়ে কভু যদি পাও ভয়
জেনে রেখো তব পূর্ববর্তী রক্তে করেছে জয়!
তরুণের কাছে চিরকাল দাবী সুন্দর এক সমাজ
নিজ হাত দিয়ে ছিঁড়ে দাও সব অপরাধ সন্ত্রাস!
হাত দিয়ে রুখো, পায়ে দিয়ে দলো, রক্ত দিয়ে ঠেকাও
নইলে ধরো কলম হাতে বিশ্ববাসীরে দেখাও!
তোমার হাতেই শুরু হোক তবে নতুন বুদ্ধিজীবী;
১৪ তারিখ শত শহীদের শূন্যটা দাও পাড়ি।

ধরো তলোয়ার, হও খেলোয়াড়,
নিষ্ঠার কাজই করো বার বার; দরকার শুধু 'করা'
রাজনীতি করো কলুষমুক্ত,দুর্নীতি দাও তাড়া,
যা কিছু ভণ্ড পণ্ড করো, হোয়ে যাও খাঁটি মানুষ,
বিবেক-বুদ্ধিতে ফিরিয়ে দাও লাখো মানুষের হুশ।



.......................................................... copyright®